আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
মোছাঃ আকলিমা বেগম তার ষাট ঊর্ধ্ব পঙ্গুস্বামী মোঃ শাহের আলীকে নিয়ে ১০ কিলোমিটার দুর্গাপুর ইউনিয়ন থেকে এসেছেন শহরের নতুন বাজারের শ্যামল ফার্মেসীতে। ধার দেনা করে ঔষধ কিনতে এসে বিপাকে পড়েছেন। প্রতিটি ঔষধের দাম আগের চেয়ে বেশী। যে টাকা নিয়ে এসেছে তারা সব ঔষধ কিনতে পারেনি। বাধ্য হয়ে সব ঔষধ না কিনে ফিরে যাচ্ছে। গত দু মাস থেকে কুড়িগ্রামের প্রতিটি ফার্মাসিতে ঔষধের গায়ে এম.আর.পি অনুযায়ী দোকানদাররা দাম নিচ্ছে ক্রেতাদের কাছে। কোন কমিশন ছাড় দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক অসুস্থ রোগী ঔষধ না কিনে অসুস্থ অবস্থায় কাটাচ্ছে। অনেকে পাশের জেলা থেকে ঔষধ কিনে আনছে।
দেশের প্রান্তিক নদ-নদী অববাহিকা বেষ্টিত জেলা কুড়িগ্রাম। মোট জনসংখ্যার অধিকাংশ মানুষেই শ্রমজীবী। প্রায় সময় আর্থিক সংকটে থাকতে হয়। তাদের পক্ষে সবসময় সব ঔষধ কিনতে পারে না টাকার অভাবে। দু মাস আগে বাংলাদেশ কেমিষ্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি কুড়িগ্রাম শাখার এক নির্দেশ জারি করেছে জেলার কোন ফার্মিসি এম.আর.পি অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রেতার কাছে ঔষধ বিক্রি করতে হবে। কোন কমিশন কাটতে পরবে না। যদি কোন দোকানদার এম আর পি চেয়ে কম টাকা নেয় হলে সমিতি কর্তৃপক্ষ জরিমানা করছে। ইতিমধ্যে অনেক দোকানে দুই, তিন হাজার এমন কি ৫ হাজার টাকা জরিমানা করছে। এই ভয়ে প্রতিটি দোকানি ঔষধ বিক্রিতে কোন ছাড় দেয় না। চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কুড়িগ্রামের সমিতি কর্তৃপক্ষ এ নিয়ম করলেও পাশ্ববর্তী জেলায় এ ধরনের কোন নিয়ম করেনি ঐ জেলার সমিতি কর্তৃপক্ষ।
মোছাঃ আকলিমা বেগম জানান, আমরা ঔষধ কিনতে এসেছি ৪০০ টাকা নিয়েছে। গরীব মানুষের কাছে এতগুলো করে টাকা নেয় কমায় ও না। আগে কমিশন ছিল এখন কমিশন নাই। এক টাকা কম নেয় না। শহরের থানা পাড়ার মন্টু মিয়া জানান আমি মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার ঔষধ খাই। এতে কমিশন এক হাজার টাকা পেতাম। এখন সেটা পাই না। গরীব মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। আইনি প্রতিকার চাই।
বাংলাদেশ ফার্মেসীর কর্ণধার জানান, আমাদের বি.সি.ডি.এস থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে এম.আর.পি বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই কাষ্টমারের কাছে চার্জ করছি। সরকার নির্ধারিত মূল্যে আমরা নিচ্ছি ঔষধের দাম। আমরা ভোক্তাদের দুর্ভোগ করছি না। সরকার যা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে তাই ঔষধের দাম নিচ্ছি।
বাংলাদেশ কেমিষ্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি কুড়িগ্রাম শাখার সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান খান হেরিক জানান কুড়িগ্রাম জেলা শাখা এম.আর.পি বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি। এটা আমাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করছি। সরকার শতকরা ১২ পাসেন্ট অনুযায়ী আমাদের লাভ দেয় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এ কারণে এম.আর.পি বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত নিয়েছি জেলায়।
রংপুর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন পরিচালক ডাঃ অজয় কুমার রায় জানান এম.আর.পি নির্ধারিত যে মূল্য ব্যবসায়ীরা পেতো সেখান থেকে ছাড় দিত ক্রেতাদের। ইদানীং কালে রোগীরা বলছে এম আর পি থেকে কোন কমিশন দেয় না। দাম কম নেয় না। রোগীরা যে প্লানে ঔষধ নিতে আসতো এখন সেই প্লানে ঔষধ নিতে পারছে না। যে সমস্ত ঔষধ খুব জরুরী সে সব ঔষধের দাম কম মূল্য নিয়ে আসা ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা জরুরী।
কুড়িগ্রাম জেলা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্বাবধায়ক মোঃ হাফিজুর রহমান জানান ১লা জানুয়ারি থেকে কুড়িগ্রাম জেলার ঔষধ ব্যবসায়ীগন এম.আর.পি অনুযায়ী ঔষধ বিক্রি করছে তাতে আইনগাত ভাবে কোণ বাঁধা নেই। এম আর পি র উপরে যদি কেউ বিক্রি করে তাহলে আইন গত ব্যবস্থা নিতে পারতাম। তবে দারিদ্র পীড়িত এ জেলায় ব্যবসায়ীরা আগের মত কমিশনের ছাড় দিয়ে ঔষধ বিক্রি করে তাহলে আমাদের ক্রেতা সাধারণের জন্য মঙ্গল।